,

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরওয়ার জাহান বাদশাহর উপস্থিতিতে পাল্টে গেল আওয়ামীলীগের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম;
মহন ইসলাম:-এক দিন আগে পছন্দমতো প্রার্থী না হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া ও আল্লার্হদর্গায় সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছিল । আবার সেখানেই সাধারণ মানুষ সড়কের দু’ধারে দাঁড়িয়ে সরওয়ার জাহান বাদশাহকে স্বাগত জানান।
দৌলতপুর উপজেলার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে সরওয়ার জাহান বাদশাহ দলীয় মনোনয়নের চিঠি নিয়ে এলাকায় পৌঁছলে পুরো চিত্র বদলে যায়। গতকাল বিকালে সরোয়ার জাহান বাদশাহ নৌকা প্রতীক নিয়ে ঢাকা থেকে দৌলতপুরে পৌঁছলে সে ভালোবাসা যেন উছলে ওঠে।

গতকাল পাবনা জেলার সংলগ্ন লালন শাহ সেতু থেকে নৌকা মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার জাহান বাদশাকে দৌলতপুরের নৌকা প্রেমী আপামর জনসাধারনরা রাজকীয় সংবর্ধনার মাধ্যমে বরণ করে নেন। এসময় দৌলতপুরের নৌকাপ্রেমীদের উপস্থিতে লালন শাহ সেতু এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় ।পরবর্তিতে দৌলতপুরের ৬-৭ হাজার মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে নৌকা প্রেমী মানুষ সরোয়ার জাহান বাদশাহকে দৌলতপুরে নিয়ে আসেন।

এ সময় সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, ‘আমার রাজনীতির ৪০ বছরের জীবনে মানুষের ভালোবাসা অনুভব করেছি কিন্তু আমার প্রতি মানুষের এমন উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা আগে দেখিনি, আজ দেখলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা ও নৌকার প্রতি মানুষ আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমি তার প্রতিদান দেব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, আমি দৌলতপুরবাসীর সপ্ন পূরনে নৌকার হাল ধরেছি। নিজের ভাগ্য পূরনের জন্য নয়। । কুষ্টিয়া-১ আসনটি জেলার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতার পর বিগত বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ আসনে তুলনামূলকভাবে বিএনপির প্রার্থীরাই বেশি জয়লাভ করেন। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান আক্কাস বিজয় লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে আহসানুল হক মোল্লা পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৪ দলীয় জোট থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদ ত্ৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও আফাজ উদ্দিন আহমেদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলন। কিন্তু ওই নির্বাচনে বর্তমান এমপি রেজাউল হক চৌধুরী বিজয়ী হন। ফলে দলের বর্তমান এমপি ও সাবেকের মধ্যে নেই বনিবনা। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান এমপি রেজাউল হক চৌধুরী। দলীয় দ্বন্দ্ব প্রকট থাকায়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ আনার সিন্ধান্ত গ্রহন করেন। যার ফলোপ্রসূতে কুষ্টিয়া-১ আসনে নৌকার মাঝি হলেন মনোনয়ন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ার জাহান বাদশা।

পরবর্তিতে দৌলতপুর উপজেলা চত্তরে বঙ্গবন্ধু মূরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সে সময় সরোয়ার আহান বাদশাহ দৌলতপুর আওয়ামী লীগের তৃনমুল নেতাকর্মী, আপামোর জনসাধারন ও সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য কূশল বিনিময় করেন।

অন্যদিকে , তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভিপি, জেলা সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ ১৯৮৬ সালে ছাত্রাবস্থায় তাকে মনোনয়ন দিয়েছিল, নেননি। ১৯৯১ ও ২০১৪ সালে মনোনয়ন দিয়ে পরে জোটের প্রার্থীর কারণে প্রার্থী বদল করে। দলের নিদ্ধান্ত মেনে বাদশাহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর শিক্ষিত, সজ্জন ও বাগ্মী হিসেবে বাদশাহকে নিয়ে দৌলতপুরের মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা