,

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রীজে ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনায় ৬ যাত্রী নিহত !!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আবু তালহা রাসেল,স্টাফ রিপোর্টার:- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রীজে এবার ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনা ঘটেছে ।আজ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী-খুলনা রেল রুটের পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের গার্ডারে ধাক্কা খেয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়ে নীচে পড়ে ভ্রমণরত ৬ যাত্রী নিহত হয়েছেন।

খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের গার্ডারে ধাক্কা খেয়ে একে একে রক্তাক্ত জখম হয়ে নীচে পড়তে থাকে যাত্রীরা। কেউ আহত হয়ে পদ্মা নদীতে, কেউ পদ্মার চরে, কেউ বা ঝুলতে থাকে ব্রীজের উপরে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী চিত্রা এক্সপ্রেস ওভারলোড যাত্রী নিয়ে খুলনা অভিমুখে আসচ্ছিল। টানা ৩ দিনের ছুটির কারনে ঢাকা থেকে বাড়ি আসচ্ছিল মানুষ। ট্রেনের ভিতরে তিল ধরনের ঠাঁই ছিল না। তাই শীতের মধ্যেও বহু যাত্রী ট্রেনের ছাদে উঠে যাত্রা শুরু করেছিল। ভোর ৪টা ৫৭ মিনিটের সময় চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি হার্ডিঞ্জ ব্রীজের কাছে ছাদে থাকা যাত্রীরা দূর্ঘটনায় পতিত হয়। এ যেন বিভিষিকাময় অবস্থা। এসময় আহত যাত্রীদের মৃত্যু আর্তনাতে ভারী হয়ে উঠে আকাশ বাতাস।

ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রীজের ২ জন নিহতের নাম পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৭ জন। ধারনা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
তাছাড়াও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মুমুর্ষ অবস্থায় ভর্তি হয় ৬ জন ট্রেন যাত্রী।

নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শোলগাড়ী গ্রামের জালাল উদ্দীনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২২), হাফিজুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (১৮) এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ জেলার ইমরান হোসেন (৩০), যশোর জেলার আবদুল্লাহ (২৮), শৈলকুপার নাজমুল ইসলাম (২৫), দৌলতপুর উপজেলার ফজলুল ইসলাম ফজো (২২), খুলনা জেলার মহিবুল্লাহ, ইব্রাহিম হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন।
তারমধ্যে ৫ জন কে মুমুর্ষ অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম শহিদ বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম’কে বলেন,আজ ভোরে আন্তঃনগর চিত্রাই এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে খুলনায় যাচ্ছিল। পাকশি ও ভেড়ামাড়া সংযোগ হার্ডিঞ্জ ব্রিজের গার্ডারের ধাক্কায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয় আরো কয়েকজন। তাদের পাবনার পাকশি কুষ্টিয়া ও ভোরামারার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হবে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

পাকশী রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ডিটিও আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম’কে জানান, ট্রেনের এমন ভয়াবহ দূর্ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, নিহত এবং আহত যাত্রীরা ট্রেনের ছাদে উঠে যাত্রা করেছিল।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা