,

শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দাপুটে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

স্পোটস ডেস্কঃ বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম; মহন ইসলাম :-সিলেটে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়দের ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।

দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার চেষ্টা করলেন শেই হোপ। তবে মেহেদী হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের দারুণ বোলিংয়ে বাংলাদেশ পেল ছোট লক্ষ্য। রান তাড়ায় শতরানের জুটিতে পথ দেখালেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার।

তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রথম ওয়ানডে জয় দিয়ে রাঙাল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৮ উইকেটের জয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল সিরিজ।
তামিম- সৌম্যর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৯৯ রানের লক্ষ্য ৭৯ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের বোলিং ছিল দারুণ। বোলাররা লাইন-লেংথ হারিয়েছেন খুব কমই। আঁটসাঁট বোলিং করে যাওয়া স্বাগতিকরা খেলিয়েছে ১৭৯টি ডট বল। হোপের ৯ চার আর এক ছক্কার বাইরে এসেছে মোটে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা।

ছোট লক্ষ্যের জবাবে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। দারুণ কাটানো একটি বছরে নিজেদের সবশেষ ওয়ানডেতে পেল অনায়াস জয়। জিতল টানা তৃতীয় সিরিজ।

১৯৯ রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সাবধানী। মারার বল পেলে মারছিলেন লিটন দাস ও তামিম। ঝুঁকি নিচ্ছিলেন না কেউই। রান রেটের কোনো চাপ ছিল না। হাতে ছিল অনেক সময়। তবুও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না লিটন। আরও একবার থিতু হয়ে যাওয়ার পর ফিরলেন বাজে শটে। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ ইমরুল কায়েসকে বাদ দিয়ে মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুনকে ফেরায় বাংলাদেশ। টপ অর্ডারে ফিরেন সৌম্য। নিজের জায়গায় ফিরে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান যেন ফিরে পান নিজেকে। শুরু থেকে খেলেন আস্থার সঙ্গে। দ্রুত জমে যায় তামিমের সঙ্গে তার জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস-স্পিন কিছুই ভাবাতে পারেনি দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে।

পরে নামা সৌম্য ফিফটির আগেই প্রায় ধরে ফেলেছিলেন তামিমকে। তবে দেশসেরা ওপেনারই প্রথমে পৌঁছান ফিফটিতে। খানিক পর পঞ্চাশ ছোঁয়া সৌম্য ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে বিশাল দুই ছক্কা হাঁকিয়ে তামিমকে ধরে ফেলেন। পরে লেগ স্পিনার বিশুর এক ওভার থেকে ১৪ রান তুলে নিয়ে এগিয়ে যান অনেকটা।

দ্রুত ম্যাচ শেষ করার চেষ্টায় থাকা সৌম্যকে বোল্ড করে থামান পল। ভাঙেন ১৩১ রানের জুটি। এই জুটিতে সৌম্যর অবদান পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৮১ বলে ৮০, তামিমের ৭১ বলে ৪৯।

সৌম্যর বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন তামিম। চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়া বাঁহাতি এই ওপেনার অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। তার ১০৪ বলের দায়িত্বশীল ইনিংস গড়া ৯ চারে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে বছরের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ ও সিরিজ জিতলো নড়াইল এক্সেপ্রস মাশরাফির দল টিম বাংলাদেশ।

ম্যাচ সেরা: মেহেদি হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ)
সিরিজ সেরা: সাই হোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা