,

তারাকান্দায় রাজাকারের দখলে মুক্তিযোদ্ধার জমি

সারা বাংলা ডেস্ক,বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, স্টাফ রিপোটার, ময়মনসিংহ থেকে বদরুল আমিন : মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির একযুগ সন্ধিক্ষনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদেরকে। মুক্তিযোদ্ধারা তাই দেশ ও জাতির গৌরবের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে দেশে ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খুব শ্রদ্ধার পাত্র। শেখ হাসিনা আজও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতি পদে পদে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলাধীন সাধুপাড়াস্থ কাশিগঞ্জ বাজরের বাসিন্দা একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হযরত আলী ৫ ছেলে ২ মেয়ে সন্তান এদের মধ্যে বড় মেয়ে নার্গিস তিন সন্তান রেখে মৃত্য বরন করেন। পরিবারের সবাই অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।১৯৯৭ সালে কাশিগঞ্জ বাজারে তার মা ও বোনকে রেখে মুক্তিযোদ্ধে চলেযান তার ঘরের একটি কক্ষে আঃ হাই পাঠান নামক এক লোক ভাড়া থাকত মুক্তিযোদ্ধে চলে যাবার পর ঔ পাঠান মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর দস্তখত ও টিপসই জাল করে ৩৭ শতাংশ জমি সহ ২ টি ঘর সাফ কবলা দলিল নং-যথাক্রমে ৪০৪১,৪২৭০ তাং- ২৯/০৫/১৯৭১ ও ০৭/০৭/১৯৭১ তারিখে এছাড়া ১একর ৬১ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৭ শতাংশ জাল কবলা করে বাকী জমি জবর দখল করে রেখেছে রাজাকার আঃ হাই পাঠান ও তার দোসররা । অভিযোগে জানা যায় আব্দুল হাই পাঠান ১৯৭১ সালে ঐ এলাকার শান্তি বাহিনীর সভাপতি ছিল। সে স্বাধীনতার সময় অনেক অন্যায়-অপরাধ ও মানবতা বিরোধী কর্ম-কান্ডে লিপ্ত ছিল।

অভিযোগ রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর জীবদ্দশায় রাজাকার আঃ হাইয়ের দোসরা এলকার সন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টি করে বি.এন.পি ও জামাত শিবিরের সাথে জড়িত থেকে নানা অপর্কম চালাছে । সন্ত্রসী বাহিনী অব্যহত ভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বাড়ী ভিটা জমিজমা বঞ্চিত করেছে জমি হারিয়ে মুক্তিযোদ্ধা অন্যের জায়গায় একটি টিনের চালা করে ভাঙ্গা চকিতে মানবেতর জীবন যাপন করেছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও রাজাকারদের দোসরের অত্যচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ।

কাশিগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কিন্তু রাজাকার আব্দুল হাইয়ের কাছ থেকে স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও তার নিজের সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারলেন না। এর চাইতে দুঃখ গ্লানি আর অপমান কি থাকতে পারে ? জেলা ও থানা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী শরীফ আহাম্মেদ এম.পি এবং মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী হাড্ডিসার দেহ রোগাক্রান্ত অবস্থায় জরাজীর্ন একটি টিনের চালা ঘরে ভাঙ্গা চৌকিতে বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবন-যাপন করে ৫ই মার্চ রোজ মঙ্গলবার ভোর ৪ ঘটিকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুক্তিযোদ্ধার লাশ রেখে স্থানীয় কয়েক হাজার জনতা এ পরিবারের বেহাত হওয়া জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জনায় অতপর ঐদিন বিকাল ৪ ঘটিকায় মরহুমের জানাযায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসার ইনচার্জ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সকল মুক্তিযোদ্ধা সহ সহস্রাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে সমাধির পূর্বে অসহায় এই পরিবারের সম্পত্তি বেহাত সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের আশ্বাস প্রদান করেন প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বেহাত হওয়া জাল দলিল মূলে ও জবর দখল হওয়া ১ একর ৬১ শতাংশ জমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছেনা বলে স্থানীয় লোকজন ও মুক্তিযোদ্ধারা চরম ক্ষোভ ও অসন্তুষ প্রকাশ করছেন।

 

বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা