,

ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ নেতা শাওন হত্যার পুর্ণঃতদন্ত দাবীঃ উদ্ধার হয়নি ব্যবহৃত অস্ত্র

সারা বাংলা ডেস্ক,বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, স্টাফ রিপোটার, ময়মনসিংহ থেকে বদরুল আমিন : ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুসের ছেলে আশফাক আল রাফি শাওন হত্যাকান্ডের পুণঃ তদন্ত ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবীতে গতকাল মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার শহরের ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বরে সচেতন ময়মনসিংহবাসীর ব্যানারে আয়োজিত শত শত জনতা এ মানববন্ধন করেন। এক বছর কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহরিত আগ্নেয়াস্রটি উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ দাবী করেছে, খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকার উক্তিমূলক জবানবন্দি করিয়েছেন। জনদাবী যে, এগুলো পুলিশের সাজানো নাটক!

মানববন্ধনে নিহতের পিতা এম এ কুদ্দুস তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারী রাত পৌনে এগারটার দিকে একটি মোবাইলে ফোন করে তার ছেলে শাওনকে ডেকে আনা হয়। একজন সাংবাদিকের গাড়িযোগে বিভিন্নস্থানে রাতভর ঘোরানোর পর রাত পৌনে দুইটার দিকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এমন সুনিদৃষ্ট অভিযোগ থাকার পরও পুলিশ মূল ঘটনায় না গিয়ে ভিন্ন পথে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন! অথচ মূল ঘটনার দ্বারে যায়নি পুলিশ! এমন অভিযোগ বক্তাদের।
তিনি আরো বলেন, আমি পরে মামলা করব যেনেও পুলিশ তড়িগড়ি করে মূল খুনিদের বাদ দিয়ে তারা বাদি হয়ে মামলা করেছেন।

মামলায় অনেকেই জড়িত না থাকলেও তাদেরকে আসামী করে হত্যাকান্ডের সাথে প্রকৃত জড়িতদের আড়াল করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে জড়িত না থাকলেও পুলিশ কর্তৃক আসামীদের রিমান্ডে এনে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র আমার কাছে জমা রেখেছে বলে তাদের কাছ থেকে এ ধরণের স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে পুলিশ। বক্তারা বলেছেন, হত্যার মূল আসামী ও কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার একই জেলার। তারা একই জেলা সমিতির অন্তভুক্ত। কাদের স্বার্থে, কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কিসের বিনিময়ে তদন্তের নামে নাটক সৃষ্টি করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে তড়িগড়ি করে চার্জসীট দিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের পূর্ণ তদন্ত, অপরাধীদের মুখোস উন্মোচন করে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনাসহ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবী করেছেন মানব বন্ধনকারীরা। আবেগ আপ্লোত পিতা আরো বলেন, চোর, ডাকাত নিহত হলেও সাংবাদিকরা অনেক লেখেন। আবার এ নিয়ে বড় বড় কলাম লেখা হয়, কিন্তু একজন রাজনীতিক ছাত্র নেতা শাওনকে গুলি করে হত্যা করা হলেও তা হয়নি। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান করবেন বলেও তিনি জানান।

এর আগে নিহতের একমাত্র বড় বোন ইশরাত জাহান ফোরা তার বক্তব্যে বলেন, তার একমাত্র ভাই শাওন হত্যাকান্ডের তদন্তের নামে পুলিশ নাটক করেছে! মাত্র আধাঘন্টা সময় ধরে তদন্ত করেছে। তিনি রাত সাড়ে দশটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত সময়ের মোবাইল কলসহ অন্যান্য সুত্র ধরে আরো অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবী করে বলেন, এ হত্যাকান্ডে মূল খুনিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন অস্ত্র উদ্ধার হয়নি? রিমান্ডের নামে আসামীদের জামাই আদর করা হয়েছে। হত্যার এক বছরের বেশী সময় হলেও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার না করেই লুকোচুরি নাটক সাজিয়ে তড়িগড়ি করে চার্জসীট দেয়া হয়েছে কেন? তিনি আরো বলেন, এ জন্য পুলিশ অর্থের খেলায় মেতেছিল! কোথা থেকে সেই অর্থ এসেছে। আর সেই টাকার উৎস কি? মানবন্ধনে রুবেল খান, মাহবুব আলম মামুন, আলী আহমেদ, রাসেল সীমান্ত, মর্জিনা আক্তার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা