,

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বনবিভাগের জমি দখল

সারা বাংলা ডেস্ক,বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, স্টাফ রিপোটার, ময়মনসিংহ থেকে বদরুল আমিন : প্রায় দুইশতাধিক বাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ময়মনসিংহের বনবিভাগের ভালুকা রেঞ্জের আওতাধীন সরকারী বনবিভাগের জমি দখলে নিয়ে প্রভাবশালীরা বহুতল ভবনসহ প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি নির্মাণ কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিশাল আকারের বসতবাড়ি নির্মাণে অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে বনভূমি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে একধিক মহল দাবী করেছেন।

উপজেলার ভালুকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ব্যাপকহারে গড়ে উঠছে বহুতল ভবনসহ বসতবাড়ি। স্থানীয় বন অফিসের কয়েক শ’ গজ দূরে এসব বহুতল ভবন ও বসতবাড়ি প্রকাশ্যে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি নির্মাণকারী একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয়রা জানান, এসব স্থাপনা নির্মাণে বনবিভাগের কতিপয় অসাধু ব্যক্তিকে দিতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভালুকা রেঞ্জের সিডস্টোর বাজার সংলগ্ন বন অফিসের অদূরে হবিরবাড়ি মৌজার ৯ নম্বর দাগে সিডস্টোর-বাটাজোর সড়কে দুই ভাই শাহজাহান শিকদার ও ইব্রাহিম শিকদার প্রকাশ্যে গড়ে তুলছেন ছয় তলা ভবন।

একই দাগে আওলাতলী সড়কের পাশে ডাক্তার রেহেনা, মুক্তার হোসেন ও মোস্তফা কামাল, স্থানীয় মিতালী হোটেলের মালিক সিরাজ উদ্দিনের ভগ্নিপতি আনোয়ার হোসেন নির্মাণ করছেন বিশাল বাড়ি এবং একই স্থানে সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। একই মৌজার ১৮৫ নম্বর দাগে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন আজিজুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, খোকা মিয়া, আইনুল ইসলাম ও হীরা মিয়াসহ বেশ কয়েকজন। ১৫৪ নম্বর দাগে নজরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। একই মৌজার ৮৭ নম্বর দাগে আব্দুর রাজ্জাক, তার ভাই ও বোনজামাই হাবিবুর রহমান ৫০ থেকে ৫৫টি ঘরের বিশাল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। একই দাগে জাহিদ হোসেন নির্মাণ করছেন পাঁচ তলা বাড়ি। ১৫৬ নম্বর দাগে বেলাশিয়াপাড়ায় বনবিভাগ নোয়াখালীতে কর্মরত সহকারী ফরেস্টার শাহজাহান ও নজরুলসহ বেশ কয়েকজন নির্মাণ করছেন বিশাল বিশাল বসতবাড়ি। পাশের ১৭০ দাগে রফিকসহ বেশ কয়েকজন রয়েছে। কাঁঠালী মৌজার ২৭৬ নম্বর দাগে ফজলু মিয়া নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন ও ধামশুর মৌজার ১১০৮ দাগে আব্দুর রাজ্জাক ও একই মৌজার ১২০৭ দাগে আখালিয়াপাড়ায় ডাক্তার শাহিন বানাচ্ছেন সাত-আট রুমের বিশাল বাড়ি। মেহেরাবাড়ি মৌজার ৭৪ নম্বর দাগে ওয়াহাব মুন্সী, ১৬০ নম্বর দাগে সুজন মিয়া, মানিক মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব আমনি খান, কিবরিয়া, আলিম, শামীম মিয়া ও মিলন মিয়া বাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরো জানা যায়, উপজেলার কাদিগড় বিটের আওতায় নলুয়াকুড়ি গ্রামে পাড়াগাঁও মৌজার বনবিজ্ঞপ্তির ২২৭ নম্বর দাগে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার নাসির উদ্দিন টিনের বেড়া দিয়ে ১৪ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তুলছেন বিশাল স্থাপনা। বিভিন্ন মৌজায় বহুতল ভবনসহ প্রায় দুই শতাধিক বাসাবাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সুত্র ও সরেজমিনে জানা যায়।

ঠিকাদার নাসির উদ্দিন জানান, স্থানীয় আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে আব্দুল বারেক মিয়ার কাছ থেকে তাদের বন্দোবস্তকৃত জমি তিনি কিনেছেন বলে জানান। তবে কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুটা স্থাপনা ভেঙে দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তা ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মাস্টারবাড়ি থেকে ধামশুর পর্যন্ত প্রভাবশালীরা সবমিলে বনবিভাগের শত কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে একটি সঙ্ঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও কাঠ পাচারকারীদল হাবিরবাড়ির বারশ্রী গ্রামে ১১ গড় নামক এলাকার কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা গজারি বনের বিশাল আকারের বন থেকে হাজার হাজার গজারি গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের ভেতর কড়াতকল স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা গজারি বনের ভেতর ও আশাপাশ এলাকায় অর্ধশতাধিক অবৈধ কড়াতকল স্থাপন করে দিনরাত এসব গজারি ও আকাশমণি গাছ চেড়াই করে যাচ্ছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। আর প্রতিটি কড়াতকল থেকে বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে বখরা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, ভালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরাবাড়ি মৌজায় বনবিজ্ঞপ্তির জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তাহলে সাধারণ মানুষ তো উৎসাহিত হবেই। তবে এসব বাসাবাড়ি নির্মাণের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। তবে এখন মামলার ব্যাপারে বলা যাবে না, আদালত যদি আমলে নেন তখন বলতে পারব।

ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) ভালুকা অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ জানান, তিনি উপস্থিত থেকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তা ছাড়া স্থানীয় বন কর্মকর্তাকে অবৈধ স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী এ প্রতিনিধিকে জানান যে, বর্তমান রেঞ্জ অফিসার ভালুকা রেঞ্জ কার্যালয়ে যোগদান করেই একসময়ে বনবিভাগের শেরপুর এলাকার বহু অপকর্মের হোতা বিট অফিসার রফিক কে খোজে পান তার সাথে আতাত করে বারশীগ্রামের ১১ গড় নামক এলাকায় কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন জোগার করে বিট অফিসার রফিক এর তত্বাবধানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা গজারি গাছ যার সংখ্যা হাজার হাজার গাছ কেটে রাতের বেলায় বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে করে নিয়মিত পাচার করে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়বাসীরা এ প্রতিনিধিকে জানান।

তারা আরও জানান যে, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে স্বরেজমিনে গোপনীয়ভাবে তদন্ত চালালে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসবে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদে¦ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা