,

কুষ্টিয়া ধুলায় নাজেহাল শহরের বসবাসকারীরা

সারা বাংলা সময় ডেস্ক, বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, কুষ্টিয়া থেকে-এস,এম,রাসেল হাসান রাজিব : ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুষিত শহরগুলোর মাঝে একটি।তবে মনে হচ্ছে দুষিত শহরের তালিকায় কুষ্টিয়া অচিরেই চলে যাবে শীর্ষে। দুষিত হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে রাস্তার ধুলা। রাস্তার ধুলার কারণে নাজেহাল অবস্থায় আছে কুষ্টিয়া শহরবাসি।রাস্তার ধুলা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ সঠিক ভাবে পানি না ছিটানো ও ভবন নির্মাণে অব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন। সরেজমিনে দেখা যায় কুষ্টিয়া শহরের অধিকাংশ রাস্তায় ধীর গতিতে পৌরসভার ড্রেন নির্মানের জন্য প্রায় স্থানে ময়লা মাটির স্তুপ পড়ে আছে।সেই স্তুপ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তায় ধুলা নির্মুলের জন্য পানি ছিটায় না বলে অভিযোগ করেন শহরবাসি। শহরের ভিতরে যে ভবনগুলো নির্মাণ হচ্ছে তার অধিকাংশই নিয়ম করে কাজ করা হচ্ছে না,ইট বালি সহ যাবতীয় সরন্জাম রাস্তার ধারে উন্মুক্ত রেখে তৈরী করছে ধুলার।

কুষ্টিয়া শহরের রাস্তায় সবচেয়ে বেশী ধুলা দেখা যাচ্ছে মজমপুরগেট হইতে বড় বাজার, মজমপুরগেট হইতে বটতৈল , মজমপুরগেট হইতে ত্রিমহনী ,আরসি আরসি স্ট্রিট রোড সহ বেশ কিছু গলি সড়কে। এ সব জায়গাগুলো কুষ্টিয়া শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এছাড়াও কাস্টমস্ মোড় সড়ক,গ্যাদন মিস্ত্রি সড়ক, ফুলতলা সড়ক সহ শহরের প্রায় সড়কেই চলছে ধুলার রাজত্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন বললেন,কু্ষ্টিয়া শহরে এখন প্রায় প্রতিটি সড়কেই ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।শহরের যে সব স্থানে ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে, সে সব স্থানে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় মাটি পরে আছে। এই মাটি থেকে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে তাই এই কাজ শেষ হওয়ার পর ধুলা অনেকাংশে কমে যাবে।এদিকে শহর বাসি কেউ কেউ মনে করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার যদি নিয়মিত পানি ছিটানোর কাজ করতো তাহলে ধুলা কম হতো।তবে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন পৌরসভার পানি ছিটানোর গাড়ি ভালো আছে কি?

কুষ্টিয়াতে ধুলার পরিমাণ বেশী হওয়ার বিষয়ে কয়েকজন সচেতন নাগরিক মনে করেন, কুষ্টিয়া শহরের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন তবে সেটা হতে হবে পরিকল্পিত।বর্তমানে রাস্তা ও ড্রেনের যে কাজ হচ্ছে সেটা যদি পরিকল্পিত ভাবে করা হতো তাহলেও কুষ্টিয়া শহরে ধুলা অনেক কম হতো।তারা আরো মনে করেন, আমাদের কুষ্টিয়া শহরের চারপাশে অনেক বৈধ্য ও অবৈধ ইট ভাটা ও বালির ঘাট রয়েছে এবং একই সময় শহরের ভিতরে চলে দালান নির্মানের কাজ। শহরের এত কাছে ইট ভাটা থাকার কারণে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং খোলা অবস্থায় দালান নির্মানের কারণে বাতাসে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরে। এটা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে যদি নিয়মিত পানি দেওয়া হয়। তবে শহরে যে কবে শেষ পানি দেওয়া হয়েছে তা ভুলেই গেছে শহরবাসি। এটা নিয়ে কোনো আইন নাই। যদি আইন থাকত তবে এদের বিরুদ্ধে কিছু একটা করা যেত। আমরা চাইলেই ইটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারি কংক্রিট এর ব্লক। এটা ব্যবহার করে না কারণ এতে খরচ বেশী পরে। যেখানে একটি ইটের উৎপাদন খরচ হওয়ার কথা ২০ থেকে ২৫ টাকা অথচ ৫ থেকে ৭ টাকার মধ্যে উৎপাদন করছে। এটা কিভাবে সম্ভব? এটা শুধু মাত্র শ্রমিকদের ন্যাজ্য মূল্য না দিয়ে কাজ করালেই সম্ভব।

এ দিকে চিকিৎসকরা মনে করেন, বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে যে পরিমান ধুলা উড়ছে তাতে মানুষের শ্বাষকষ্ট,হাপানি,এ্যালার্জি সহ হার্ড ও ফুসফুসের বিভন্ন রোগ হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরো ভয়াবহ রোগ নিয়েই আসবে পৃথীবিতে।তাই কুষ্টিয়ার সচেতন মানুষ মনে করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র মহোদয় একটু সু-দৃষ্টি দিলেই এই ভয়াবহ ধুলার হাত থেকে রক্ষা পাবে কুষ্টিয়াবাসিকে।

বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা