,

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অনিয়মের ‘প্রমাণ’ পেয়েছে দুদক

সারা বাংলা ডেস্ক : বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম; চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।গতকাল বুধবার এক অভিযান চালিয়ে ট্রেড লাইসেন্সের রেজিস্ট্রার না রাখা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নবায়নে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং নগদ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানান দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

এই ‘দুর্নীতি’ তদন্তে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন চাইবেন বলে জানিয়েছেন সংস্থার চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক লুৎফুল কবীর চন্দন।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়-১ এর একটি দল আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের রাজস্ব শাখায় এবং পরে নিউ মার্কেট এলাকায় রাজস্ব সার্কেল-৪ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তাঁরা বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা এবং লাইসেন্স গ্রহীতাদের তথ্য যাচাই করেন।

এই অভিযান নিয়ে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে এবং ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের কোনো তথ্য তাঁরা রেজিস্ট্রারে রাখে না।
“আবেদনের বিপরীতে যে টাকা জমা হয়, তা নিয়ে নিজেরাই তারা ব্যাংকে জমা করে। কয়জন লাইসেন্স পেল, কত টাকা দিল, রেজিস্ট্রারে এর কোনো তথ্য নেই। এছাড়া কারা লাইসেন্সের আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, এরও কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।”বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন।

রেজিস্ট্রারে তথ্য না থাকার বিষয়ে সিসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমরা যে প্রসেস মেনটেইন করি, সেটাতে তাদের (দুদক) আপত্তি থাকতে পারে। সেটা তাঁরা দেখেছেন।

“তবে প্রক্রিয়াটি আমরা অটোমেশনে নিয়ে যাচ্ছি। দেড় মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া অটোমেশনে চলে যাবে। ব্যাংকের সাথে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে।”

ট্রেড লাইসেন্স তৈরিতে সরকারি ফির তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পায় দুদকের দল।

দুপুরে সার্কেল-৪ এর কার্যালয়ে ইস্যু হওয়া ট্রেড লাইসেন্স থেকে আবেদনকারীদের টেলিফোন নম্বর নিয়ে ফোন করেন দুদক কর্মকর্তারা। এসময় একাধিক গ্রাহক জানান, কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। এসব কল রেকর্ড করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

এসময় দুদকের দুই কর্মকর্তা রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এসে জানান, ৫০০ টাকা নবায়ন ফি হলেও দুই হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। এজন্য রশিদও দেওয়া হয় না।

সিসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, “বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো তথ্য বা অভিযোগ আমাদের হাতে নেই। যদি দুদক অনিয়ম পায়, তাহলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে।”

দুদক কর্মকর্তা চন্দন বলেন, “দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। পরিদর্শকদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা বেশি।”

অভিযান চলাকালে সার্কেল-৪ এর টিও নুরুল আলম এবং উপ-কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতিকুর রহমান দুদক কর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি।

টেলিফোনে লাইসেন্স গ্রহীতাদের সাথে দুদক কর্মকর্তারা কথা বলার সময় ইকবাল নামের এক কর্মচারী লাইসেন্স আবেদনকারীকে সামনে এসে বলার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

এসময় দুদক উপ-পরিচালক চন্দন বলেন, “সামনা-সামনি অভিযোগ দিলে আগামী বছর তো আর আপনারা লাইসেন্স নবায়ন করবেন না।”

লাইসেন্স প্রদানের জন্য সরকার নির্ধারিত শর্তাবলী নানা কারণে পূরণ করা সম্ভব হয় না বলেও এসময় স্বীকার করেন ট্রেড লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা