,

অভিনয় ছাড়তে পারব না : কাজী নওশাবা আহমেদ

বিনোদন ডেস্ক : বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম :
বিশেষ প্রতিনিধি:-সুঅভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা আর কার্টুন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। অনেক নাটকের পাশাপাশি ৫টি মানসম্মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। তবে এখন অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন এই তারকা। কিন্তু সেটা স্বেচ্ছায় নয়।

নওশাবা বলেন, ‘আমি এর আগেও কয়েকবার অভিনয় থেকে চিরতরের জন্য দূরে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে বিফল হয়েছি। খুব বেশিদিন দূরে থাকতে পারিনি। এখন আমি জেনে গেছি অভিনয়কে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি। তাই এই মাধ্যম থেকে দূরে থাকার কোনো শক্তিই আমার নেই। অভিনয়কে আমি প্রার্থনা জ্ঞান করি। অনেক আদরের একটি জায়গা। অনেক কষ্ট করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত প্রেম থাকা সত্ত্বেও আমি এখন অভিনয় করতে পারছি না। কারণ আমি আর চাই না অসংখ্য নাটকের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। এমন একটি চরিত্রের অপেক্ষায় আছি যা আমাকে আবার মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাবে। তার জন্য যতদিন অপেক্ষা করতে হয় করব। কিন্তু ভালো কাজ ছাড়া দর্শকের সামনে আসার ইচ্ছা নেই।’ কেন পছন্দের চরিত্র পাচ্ছেন না জানতে চাইলে নওশাবা অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এমনিতেই আমাদের দেশে খুব একটা ভালো কাজ হয় না। আর হলেও তাতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটা কঠিন। কারণ, আমাদের এখানে এক একটা গ্রুপ তৈরি হয়েছে। সেই গ্রুপের বাইরে কেউ ভালো কাজের সুযোগ খুব একটা পায় না। কিন্তু এভাবে তো আস্তে আস্তে আমরা পেছনেই পড়ছি। আমাদের এগোতে হলে ভালো শিল্পীদের সুযোগ দিতে হবে।’ কীভাবে? ‘সারা বিশে^ কাস্টিংয়ের আগে অডিশন হয়। আমাদের এখানেও সেই সিস্টেম চালু করা উচিত। তাহলে আমার মতো অনেক শিল্পী আছেন যারা অভিনয়কে লালন করেন তারা কাজের সুযোগ পাবেন। আমার সৌভাগ্য যেÑ পাঁচটি সিনেমাতেই আমি অডিশন দিয়ে টিকেছি। এই প্রাপ্তির মধ্যে আলাদা মজা আছে।’ অভিনয় না করলেও নওশাবা একেবারেই বসে নেই। নানা পেশার বন্ধু-পরিচিত-অপরিচিতদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন ‘টুগেদার উই ক্যান’ নামের সংগঠন। যারা সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করে। এই সংগঠনের আওতায় সম্প্রতি তিনটি কাজ করেছেন নওশাবা। গত ৫ ও ৬ এপ্রিল বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’-এ সাভারের একটি হাসপাতালের পঙ্গু লোকজনকে ট্রেনিং করিয়ে পাপেট শো আয়োজন করেন। এতে ‘বন্ধু পুতুল’ নামে একটি স্টল দেন যেখানে দুটি জোড়া পুতুল কিনে একটি পুতুল সন্তানের জন্য আর অন্যটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিতে হয়। এই পুতুল বিক্রির টাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যেই দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই পুতুলগুলো তৈরিও করেছে দিনাজপুরের সুলতানপুর গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।

এছাড়া মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য সেল্ফ ডিফেন্স নামের একটি কর্মশালার আয়োজন করেন। প্রতিটি কাজে নওশাবা সবার অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন। আসছে মে মাসের ১ বা ৩ তারিখ এই পাপেট শোর আরেকটি প্রদর্শনী হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা