,

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আবারও যৌতুকের বলি নববধূ

সারা বাংলা ডেস্ক : বাংলা সময় টোয়েন্টিফোর ডটকম; হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃহাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড় উদালিয়া গ্রামের মাইজ পাড়ার (ছদ্মনাম) ঝরনা(২০) কে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সদ্য বিবাহিত স্বামী এমরান প্রকাশ মুন্নার বিরুদ্ধে। গত ২৭ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩দিনে নির্যাতনে স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে জখমের কারণে ওই গৃহবধূকে উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর পিতা বাদি হয়ে স্বামী এমরানুল ইসলাম মুন্না এবং শাশুড়ী হাছিনা আকতারের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের মনোহর আলী চৌধুরী বাড়ীর মৃত মোবারক আলী সারাং এর ছেলে এমরান প্রকাশ মুন্নার সঙ্গে গত ২৮/১/২০১৯ই তারিখে একই উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের উদালিয়া গ্রামের মাইজ পাড়ার আব্দুর রহমান ভুয়াইর কন্যা ছদ্মনাম ঝরনার(২২) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে নানা সময়ে এমরান প্রকাশ মুন্না ও তার পরিবার ঝরনা কে নির্যাতন করে আসছে।

নির্যাতিত ঝরনার বাবা আব্দুর রহমান ভুয়াই বলেন, বিয়ের আগেই যৌতুক হিসেবে জামাই(এমরান) কে নগদ দেড় লক্ষ টাকা দিই। তারপর ‘যৌতুকের জন্য মেয়ের জামাই বিয়ের কয়েক সপ্তাহ পর প্রায় ২২দিন পর্যন্ত একটানা নির্যাতন করেছেন তা নয় ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখে আমার মেয়ে কে বলে এ সব কথা যদি আমাদের কে জানানো হয় তাহলেই আমার মেয়েসহ আমাদের পরিবারের সবাই কে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। যার ফলে আমার মেয়ে কে আমাদের সামনে তেমন কোন কথা কিংবা বসতে দিতেন না। এমন কি মোবাইল পর্যন্ত দিতেন না। তাদের ২৭-২৯ মার্চ টানা ৩ দিনের নির্যাতনে আমার মেয়ের হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থান মারাত্মক জখম করে ঘরে বন্দি করে রাখে। এরপর মেয়ে কে রুমে বন্দি করে রেখে জামাই তার মাকে পাহারা দেয়ার জন্য বলে যখন সে বাইরে যায় তখন আমার মেয়ে ২৯ মার্চ রাতে পায়খানা যাবে বলে বের হয়ে প্রাণ নিয়ে কোনমতে পার্শবতী একটি মাজারে গিয়ে সেই মাজারের খাদেম থেকে মোবাইলে আমাকে জানালে আমি শহর থেকে নিজের ট্রাকটি নিয়ে মাজার এসেই দেখি তার অবস্থা খুবই মারাত্মক তখন সাথে সাথে তাকে নিয়ে উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনকারী স্বামী এমরান প্রকাশ মুন্নার কাছে যৌতুকের জন্য নববধূ কে ঘরে বন্দী করে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে ব্যস্ত আছে বলে লাইন কেটে দেয়।

এ ঘটনার বিষয়ে গুমানমর্দ্দন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন, নির্যাতিত গৃহবধুর পিতাসহ আমার কাছে এসেছেন এবং আমি নিজের চোখে দেখেছি কিভাবে নির্যাতন করেছেন তা বলার ভাষা আমার নেই। তবে আমার পক্ষ থেকে যদি কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তা আমি করব।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মোঃ বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা