,

খুতুলুন: এক রাজকন্যার বীরত্বগাঁথা জীবনী

খুতুলুন: এক রাজকন্যার বীরত্বগাঁথা জীবনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, ঢাকা অফিস : আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশ বছর আগেকার কথা। মঙ্গোলিয়ার উত্তরাঞ্চলে অনন নদী ও বুরখান খালদুন পাহাড়ের কাছে অবস্থিত দুলুন-বোলদাক এলাকায় ১১৬২ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম নেয় এক ছেলে, নাম তার তেমুজিন। কালক্রমে এ তেমুজিনই বিশ্ববাসীর কাছে চেঙ্গিস খান নামে সুপরিচিত এবং একইসাথে কুখ্যাত হয়ে ওঠে। ১২০৬ সাল থেকে শুরু করে ১২২৭ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি প্রায় ১,২০,০০,০০০ বর্গ মাইল এলাকা জয় করেছিলেন! বিশাল এ সাম্রাজ্য জয়ের পথে যেসব হিংস্রতার পরিচয় চেঙ্গিস খান দিয়েছিলেন, তা শুনলে আজও মানুষের বুক কেঁপে ওঠে, মন ভরে যায় বিষাদে।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক। চেঙ্গিস খানের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, তার বাহিনী নাকি একবার এক ঘন্টায় ১৭,৪৮,০০০ জন মানুষকে খুন করেছিলো, অর্থাৎ মিনিটে প্রায় ২৯,১৩৩ জন মানুষের মৃত্যু! নিঃসন্দেহে অকল্পনীয় এক সংখ্যা, সেই সাথে অবিশ্বাস্যও বটে। ঠিক ১৭,৪৮,০০০ জন মানুষ সেদিন মারা গিয়েছিলো কিনা সেটা সঠিকভাবে জানা না গেলেও সেদিন আসলে অগণিত মানুষ মারা গিয়েছিলো।

১২২১ সালের এপ্রিল মাসের কথা, পারস্যের এক শহরের নাম ছিলো নিশাপুর। সেই নিশাপুরেরই আনুমানিক জনসংখ্যা তখন ছিলো প্রায় ১৭,৪৮,০০০। তখনকার সময়ে এ শহরটি সংস্কৃতিগত দিক থেকে ভালোই বিকশিত ছিলো। একসময় এ নিশাপুরই চেঙ্গিস খানের বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে নিশাপুরের কোনো বাসিন্দার ছোঁড়া তীরের আঘাতে মারা যান খানের সবচেয়ে প্রিয় জামাতা তকুচার। স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাগলপারা খানের মেয়ে দাবি করে বসলেন যে, নিশাপুরের সকল অধিবাসীকে হত্যা করতে হবে। চেঙ্গিস খানের ছোট ছেলে তলুই এর নেতৃত্বে তখনই নৃশংস এ অভিযানে নেমে পড়ে খান বাহিনী। নারী-পুরুষ-শিশু এমনকি কুকুর-বিড়াল পর্যন্ত সেদিনের সেই গণহত্যা থেকে বাঁচতে পারেনি। তারপরও কেউ বেঁচে যেতে পারে এ চিন্তায় এরপর খানের মেয়ে দাবি করে বসেন যে, মৃত সবার মাথা কাটতে হবে দেহ থেকে, তারপর সেই মাথা দিয়ে বানাতে হবে পিরামিড! দশদিন পর বানানো শেষ হয়েছিলো সেই পিরামিড, মৃতদের ছিন্ন মস্তকের পিরামিড! তবে কেন এত মানুষের মৃত্যুর সময়কাল হিসেবে মাত্র এক ঘন্টার কথা বলা হয়, এর সদুত্তর জানা নেই কারও।

কুখ্যাত এ চেঙ্গিস খানেরই তৃতীয় সন্তান ছিলেন ওগেদেই খান। তিনি ছিলেন মঙ্গোল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় গ্রেট খান বা সম্রাট। ওগেদেই খানের এক ছেলের নাম ছিলো কাশিন। এ কাশিনের এক ছেলের নাম ছিলো কাইদু খান। ১২৩০ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম নেয়া কাইদু খান বর্তমান চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশ ও মধ্য এশিয়ার অংশবিশেষ শাসন করতেন। পারিবারিক জীবনে কাইদু খান ছিলেন পনের সন্তানের জনক। এদের মাঝে চৌদ্দজনই ছিলো ছেলে, আর একজন মেয়ে। একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবার খুবই আদরের সন্তান ছিলো সে। কাইদু খানের একমাত্র কন্যা খুতুলুনের অসাধারণ বীরত্বগাঁথা দিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ইতিহাসের গল্প।

খুতুলুনের জন্ম ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দে। ছোটবেলা থেকেই তাকে এক আদর্শ ভবিষ্যৎ যোদ্ধা রুপে গড়ে তুলতে সব রকম ব্যবস্থা করেছিলেন কাইদু খান। অশ্বচালনা, তীরন্দাজ হবার প্রশিক্ষণ, কীভাবে তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করতে হয়, রেসলিং করা, আগুন ধরানো ইত্যাদি সবই শৈশবে শেখানো হয়েছিলো খুতুলুনকে। ফলে ছোটবেলা থেকেই এক অসাধারণ দৃঢ় মানসিকতা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিলো তার মাঝে।

খুতুলুনের অন্যতম পছন্দনীয় বিষয় ছিলো রেসলিং। এদিকে তার দক্ষতা এতটাই বেশি ছিলো যে, প্রতিপক্ষ কখনোই তার সামনে দাঁড়াতে পারতো না। তার সময়ে রেসলিং কিন্তু এখনকার মতো নানা ওজন শ্রেণীতে ভাগ করা থাকতো না। কিংবা টেন স্পোর্টসে দেখানো WWE এর মতো সাজানো কাহিনীও থাকতো না সেখানে। বরং সবই ছিলো বাস্তব। খুতুলুনের প্রতিপক্ষরা সবাই ছিলেন পুরুষ এবং সবাই বেশ শক্তিশালী। কিন্তু কেউই কোনোদিন শক্তিশালী খুতুলুনকে হারাতে পারেন নি! সত্যি কথা বলতে, রেসলিংয়ে খুতুলুনের এমন এক অর্জন আছে, যা তাকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। সেই গল্প বলছি একটু পরেই।

এই রেসলিং নামক খেলাটা যেন আসলেই মঙ্গোলিয়ানদের রক্তে মিশে আছে। কারণ দেশটির জাতীয় খেলাও কিন্তু রেসলিং! এখন পর্যন্ত অলিম্পিকে মোট ২৬টি পদক জিতেছে এশিয়ার এ দেশটি। এর মাঝে জুডো থেকে ৮টি, বক্সিং থেকে ৭টি আর রেসলিং থেকে এসেছে ৯টি। অর্থাৎ ২৬টি পদকের মাঝে ২৪টিই এসেছে শারীরিক ক্ষমতাবলে প্রতিপক্ষকে ধরাশয়ী করার মাধ্যমে।

দেখতে দেখতে একসময় খুতুলুনের বিয়ের বয়স হয়ে যায়। তারা বাবা-মায়ের পাশাপাশি কাছের মানুষেরা তার জন্য পাত্র দেখা শুরু করে। এসব ক্ষমতাবান পরিবার বিয়ের বেলায় চমৎকার এক কৌশল অবলম্বন করতো। তারা সাধারণত তাদের ছেলে বা মেয়েকে অপর কোনো শক্তিশালী পরিবারের সাথেই বিয়ে দিতো যাতে করে দুই পরিবারের সমন্বিত শক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান আরেকটু শক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া যেত।

তবে খুতুলুনের ব্যাপার ছিলো একেবারেই আলাদা। ‘যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়া-পড়শির ঘুম নাই’ প্রবাদটির চমৎকার প্রতিফলন ঘটেছিলো তার জীবনে। বিয়ের ব্যাপারে বেশ অ্যালার্জিক ছিলেন তিনি। বিয়ের নাম শুনলেই কেন জানি তার মন বিষিয়ে উঠতো। তাই বাবা-মায়ের অনেক অনুরোধের পর তিনি বিয়েতে রাজি হন, তবে শর্ত দেন- যে পুরুষ তাকে রেসলিংয়ে হারাতে পারবে, তাকেই তিনি বিয়ে করবেন। আর যদি সেই লোকটিই হেরে যায়, তাহলে তার পক্ষ থেকে খুতুলুনকে ১০০ ঘোড়া দিতে হবে!

এমন ঘোষণা শুনে অনেক শক্তিশালী পুরুষই এগিয়ে এসেছিলো খুতুলুনের সাথে রেসলিং লড়তে। কিন্তু আফসোস, একসময় খুতুলুনের আস্তাবলে ১০,০০০ ঘোড়া জমে যায় শুধু এ রেসলিং থেকেই, তবু আসল পুরুষের দেখা মেলে নি! ১০০০০/১০০ = ১০০ জন পুরুষকে হারিয়েছিলেন তিনি!

একবার এক লোক নিজের জেতার ব্যাপারে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলো যে, তিনি একশোর বদলে ১,০০০ ঘোড়া বাজি ধরে বসেন। সেই লোকটি খুতুলুনের বাবা-মার পরিচিত এবং একই সাথে ভালো স্বভাব-চরিত্রের থাকায় তারাও মেয়েকে অনুরোধ করেন এবার যাতে সে হেরে যায় স্বেচ্ছায়। খুতুলুন কী করেছিলো শুনবেন? পরদিন সকলের সামনে রেসলিংয়ে সেই লোকটিকে ধরাশয়ী করে নিজের আস্তাবলে আরো ১,০০০ ঘোড়া যোগ করে তবেই বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি!

এর কাছাকাছি সময়েই অবশ্য মঙ্গোলদের মাঝে গৃহযুদ্ধ বেঁধে গিয়েছিলো। এর একপ্রান্তে ছিলেন খুতুলুনের বাবা কাইদু খান, আর অপর প্রান্তে কাইদুর চাচাত ভাই কুবলাই খান। এ যুদ্ধে খুতুলুনের বীরত্বের কথা সবাই মনে রেখেছে। মাঝে মাঝেই নিজেদের পক্ষ ছেড়ে ঝড়ের বেগে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যেতেন খুতুলুন। তারপর সেখান থেকে যাকে পেতেন, দ্বন্দযুদ্ধে তাকেই চোখের পলকে পরাজিত করে বেঁধে নিজের বাহিনীর দিকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতেন তিনি। বন্দী সৈন্যটি তখন চেঁচিয়ে নিজের সৈন্যদের কাছে সাহায্য চাইতো। কিন্তু ততক্ষণে খুতুলুন পৌঁছে যেতেন তার নিজের বাহিনীর কাছে। তারপর বন্দী সেই সৈন্যকে রেখে এসে আবারো ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত নিজের অশ্বারোহী সেনাদলের নেতৃত্বে মনোযোগ দিতেন তিনি।

একজন নারী হয়েও খুতুলুনের এমন বীরত্বে স্বাভাবিকভাবেই তার পক্ষের লোকদের মনোবল অনেক বেড়ে যেত। আর গৃহযুদ্ধের সময় এমন কাজ তিনি একবার নয়, বরং বেশ কয়েকবারই করেছেন। বাজপাখি যেমন ক্ষীপ্রতার সাথে নিজের শিকারকে ছিনিয়ে নিয়ে উড়াল দেয় আকাশের বুকে, খুতুলুনের এমন বীরত্বকে তার সাথেই তুলনা করেছেন বিখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলো।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য খুতুলুন বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই বিয়েটা ঠিক কোন পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছিলো, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে আছে মতভেদ। সবার কথাই তুলে ধরছি এক এক করে।

মতবাদ একঃ বিয়ের প্রতি খুতুলুনের জেদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় নি সমাজের কারণেই। কারণ তখন কানাঘুষা শুরু হয়ে গিয়েছিলো যে, খুতুলুনের সাথে সম্ভবত তার বাবা কাইদু খানের অবৈধ সম্পর্ক আছে, তাই তিনি বিয়ে করছে না! এমন কানাঘুষা যখন খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তখনই তিনি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

মতবাদ দুইঃ খুতুলুন স্বেচ্ছায়ই বিয়ে করেছিলেন। তার স্বামীর নাম ছিলো আবতাকুল। লম্বা, সুদর্শন, আচার-ব্যবহারে ভদ্র আবতাকুলের সাথে অবশ্য খুতুলুনের পরিচয় হয়েছিলো দুর্ঘটনাবশত। আবতাকুল ছিলেন এক সম্ভ্রান্ত যোদ্ধা। কুবলাই খান তাকে পাঠিয়েছিলেন গোপনে কাইদু খানকে খুন করে আসার মিশনে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আবতাকুলের, কারণ তিনি ধরা পড়ে যান কাইদু খানের সৈন্যদের হাতে। তাকে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিচারে সিদ্ধান্ত হয় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। ছেলের এমন অবস্থা দেখে ছুটে আসেন আবতাকুলের মা। তিনি কাইদু খানের কাছে নিজের জীবনের বিনিময়ে ছেলের প্রাণভিক্ষা চাইলে কাইদু খান তা মঞ্জুর করেন।

কিন্তু এমন প্রস্তাব প্রত্যাখান করে আবতাকুল বীরের মতোই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তার এমন ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন কাইদু খান। বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে আবতাকুলকে নিজের সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করেন তিনি। এক যুদ্ধে আহত হয়ে যখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন, সেখানেই তার সাথে দেখা হয় খুতুলুনের। আবতাকুলকে মনে ধরে যায় তার। আস্তে আস্তে একসময় ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা, তারপরই হয় বিয়ে।

মতবাদ তিনঃ কারো কারো মতে- কোরোস গোত্র থেকে কাইদু খানের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বিয়ে করেছিলেন খুতুলুন।

মতবাদ চারঃ রশিদ আল-দীনের মতে, খুতুলুন পারস্যে থাকা মঙ্গোল শাসক মাহমুদ ঘাজানকে বিয়ে করেছিলেন।

যা-ই হোক, চারদিক থেকে চার রকম মতবাদ পেলেও খুতুলুন যে ১০,০০০ ঘোড়ার বিশাল এক সংগ্রহশালা বানানোর পরও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেছিলেন, এটাই সত্য!

১৩০১ সালে মারা যান কাইদু খান। খুতুলুনের ধীশক্তি, সামরিক দক্ষতা, উপস্থিত বুদ্ধি, বীরত্ব ইত্যাদি সবকিছু বিবেচনা করে মৃত্যুর আগে তিনি তাকেই তার প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার চেয়ে বয়সে বড় আর চৌদ্দজন ভাইয়ের কথা ভেবে এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন খুতুলুন। বরং এক ভাইকে তিনি গোপনে জানান যে, পরবর্তী ‘খান’ হবার ব্যাপারে আমি তোমাকে সমর্থন দিবো যদি তুমি যুদ্ধক্ষেত্রে তোমার সৈন্যদলের নেতৃত্বের ভার আমার হাতে ছেড়ে দাও।

আসলে প্রাসাদে বসে শাসনকার্য পরিচালনার চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রের ঝনঝনানি, রক্তের হোলিখেলা, শত্রুর আর্তনাদ, নিজের শক্তি আর বুদ্ধির প্রদর্শনই খুতুলুনকে বেশি টানতো। তাই তো এমন লোভনীয় প্রস্তাব পরিত্যাগ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো।

নিজের ভাইকে খান পদে অধিষ্ঠিত করে খুতুলুন নিজে হয়ে যান সেনাবাহিনীর জেনারেল। তবে এই পদে খুব বেশিদিন আসীন থাকার সৌভাগ্য হয় নি তার। পাঁচ বছর পরই ১৩০৬ সালে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বীর এ নারী। অবশ্য কোনো গুপ্তঘাতক দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো লড়তে লড়তেই তিনি মারা গিয়েছিলেন সেই তথ্যটি কখনোই জানা যায় নি। এভাবেই ইতি ঘটেছিলো মানব ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত এক নারীর বীরত্বগাঁথা জীবনের।

বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম
সূএ : wikipedia

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা