,

তোমার কৃষ্ণচূড়া ঠোঁটে এক ফোঁটা দুঃখ- চোখের বালি

তোমার কৃষ্ণচূড়া ঠোঁটে এক ফোঁটা দুঃখ- চোখের বালি

___ হাসনাহেনা রানু

সমুদ্রের তীর ঘেঁষে হাঁটছে সোনালি
এক পাশে ধূধূ বালুচর
যতদূর দৃষ্টি যায়
শুধুই অবাধ জলের বাড়াবাড়ি ,
সোনালি দুঃখ বিলাস করতে সমুদ্রের কাছে ছুটে আসে —
বার বছর কষ্ট পুষেছে বুকে
ওর কষ্টের কারণ মেঘ :
মেঘ ওকে দুঃখ দিয়েছে
দু’ চার ফোঁটা দুঃখ নয়
এক পৃথিবী —- না
এক আকাশ — তাও না,
একটা নয় অসংখ্য সমুদ্র সমান দুঃখ …..

স্বার্থপর মানুষের পৃথিবীর ভীড় ছেড়ে
সোনালি কখনো কখনো
সমুদ্রের কাছে খুব একা হয় ——
সমুদ্রের নোনা জলে ফেলে ক’ফোটা চোখের জল ;

সোনালি জানে ওর পাশে এখন মেঘ থাকলে
নির্ঘাত ওর চোখের জল মুছে দিতে দিতে বলত ——
এই মেয়ে কাঁদছো কেন ?
কেঁদো না,দ‍্যাখো তোমার চোখের জলে সমুদ্রের স্রোতে —–
পাঁচ লক্ষ নক্ষত্র আর দুই আকাশ নীল ভেসে যাচ্ছে ….
তোমার কৃষ্ণচূড়া ঠোঁটে এক ফোঁটা দুঃখ ও মানাচ্ছে না,
প্লিজ! কান্না বন্ধ করো ——
কেন কাঁদছো বলোতো ?
আমি তোমার পাশে আছি —
তোমার অবুঝ মন !
আমার শহরের যেদিকে তাকাই ,
শুধু তুমি আর তুমি
আর কেউ নেই, কিছু নেই কোথাও ।

আমার মনের বারান্দায় তুমি সারাক্ষণ বৃষ্টি ভেজা ঘুঘু হয়ে বসে থাক —
তোমার চোখে অশ্রু নয় ,
সবুজ পাতার রঙে আরও সতেজ করে দেব তোমাকে ।

তোমার চোখের কাজলে একটা কবিতা লুকিয়ে আছে —
কবিতাটা ভেসে ভেসে চলে যাচ্ছে আকাশে ,
সোনালি বলল,
কবিতা কোথায় যাচ্ছে ?
মেঘের কাছে —-
আকাশের খোলস ছেড়ে তুমি বেরিয়ে এসো মেঘ …
আমার চোখের জল মুছিয়ে দাও —
আমি আর পারছি না,আর পারছি না মেঘ …
কেন বার বছর তুমি আমায় ভুলে দূরে সরে থাকলে ?
আমার দু’চোখের দৃষ্টি ছিলে তুমি —-
আর আজ সেই তুমি চোখের বালি ?
সোনালি আর ভাবতে পারে না ….
সমুদ্র তীরে দু’ হাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে !
কতক্ষণ সোনালি এভাবে ছিল সে নিজেও জানে না :—

সোনালি জানে —–
আজ একটা বিশেষ দিন ,
আজ থেকে এক যুগ আগে ঠিক এই দিনে ..
পড়ন্ত মায়াবী বিকেলে মেঘের সাথে ,
সোনালির এখানে দেখা হয়েছিল ..
কথা হয়েছিল,সে অনেক কথা ;

মন দেয়া নেয়া হয়েছিল আরও পরে
তবু সেই প্রথম পরিচয়ের শুভক্ষণ
সোনালি ভুলতে পারিনি,
আজও মনে রেখেছে ।

এক হাঁটু জল ভেঙ্গে
সোনালি হঠাৎ কিছু সময় স্মৃতির ফ্ল‍্যাশ মবে হারিয়ে যায় ———————
অতঃপর,
একটু একটু করে সোনালি
গভীর জলের দিকে ধাবিত হয় ——–

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা