,

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা আসামীদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা ও মেয়ে

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা আসামীদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা ও মেয়ে

সারা বাংলা ডেস্ক, বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, ঢাকা অফিস : মোঃ বাবুল হোসাইন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলায় দুই যুবককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পঞ্চগড় থানা পুলিশ।

আসামিদের পরিবারের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই কিশোরীর পরিবার। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকার আকবর আলীর ছেলে ফজলুল হক সাগর (৩০) এবং পঞ্চগড় শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার আমিনার রহমানের ছেলে জাফরুল ইসলাম অন্তর (১৬)। শহরের মসজিদপাড়া এলাকার এক কিশোরীকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন আইন এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়নন্ত্রণ আইনে গত ১৭ মে তাদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই কিশোরীর মা এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার পর পরই পুলিশ ওই দুজন আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আসামিদের পরিবারের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই কিশোরীর পরিবারটি। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গাড়ি চালক আকবর আলীর ছেলে পঞ্চগড় গণপূর্ত বিভাগের প্রহরী এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী কমিটির সদস্য রাহাত সাউন্ড সিস্টেম প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক সাগরের নির্দেশে ছয় মাস আগে মামলার অপর আসামি জাফরুল ইসলাম অন্তর পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী কোচিং থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ফজলুল হক সাগর স্থানীয় ডিসি পার্কের পাশে মিঠাপুকুর শাহী মসজিদ পাশে কবরস্থান সংলগ্ন রাস্তায়য় মেয়েটির হাত ধরে। এরপর টেনে হিঁচড়ে পাশেই একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় অন্তর চলে গেলে ফজলু তাকে নগ্ন করে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং এক হাতে মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। এরপর মেয়েটিকে ছেড়ে দিলেও গত ছয় মাস থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে নানা ধরনের অশালিন আচরণ করে আসছিল ফজলু। ভয়ে মেয়েটি পরিবারসহ কাউকেই এই ঘটনা জানায়নি। গত ১৫ মে ওই শিক্ষার্থীর ভাই মোবাইল ফোনে ওই ভিডিওটি দেখতে পায়। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে এর সত্যতা স্বীকার করে এবং ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিভিন্ন জায়গা থেকে আপত্তিকর ফোন আসা শুরু করে। এরপরে তারা আইনের আশ্রয় নেয়।

ওই শিক্ষার্থীর মা জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে ভয়ে ও লোকলজ্জায় বর্তমানে বাড়িতে থাকতে পারছিনা। আসামিরা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে মীমাংসা করতে বলছে। অথবা পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিচার চাই। আপনারাও এই সংবাদ লিখিয়েন না। লিখে কি হবে? বর্তমানে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিনা। আমরা মামলায় যা উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম এখন মামলার এজাহারে কিছুই দেখছিনা। মামলাটা ইচ্ছা করে হালকা করে দেয়া হয়েছে।

আমরা যে এজাহারটি লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম তা বাতিল করে পুলিশ অন্য এজাহার লিখে দিয়েছেন।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় থানার এসআই জাহেদুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার এজাহার লেখার ব্যাপারে জানি না। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল ইসলাম জানান, ফজলু এই অফিসে প্রহরীর চাকরি করতো। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ফজলুল হক সাগর শিল্পকলার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা