,

রংপুরে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় পাঁচ আসামির ১৩ বছর কারাদন্ড

রংপুরে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় পাঁচ আসামির ১৩ বছর কারাদন্ড

সারা বাংলা ডেস্ক, বাংলা সময় টুয়েন্টিফোর ডটকম, ঢাকা অফিস : নুর আলম, রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরে রুমানা আফরোজ তন্দ্রা নামে এক কলেজছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, মারপিট ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় পাঁচ আসামির ১৩ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জাবিদ হোসেন এ রায় দেন। দন্ড প্রাপ্তরা হলেন, নগরীর রবার্টসন্সগঞ্জ মন্ডলপাড়া এলাকার মানিক, রতন, রানা, বাবলা ও মালেকা। এদের মধ্যে দুইজন পলাতক থাকলেও রায় ঘোষণার সময় মানিক, রানা ও বাবলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর আইডিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমানা আফরোজ তন্দ্রা ছুটিতে রংপুর নগরীর রবার্টসন্সগঞ্জ মন্ডলপাড়া এলাকার বাসায় আসেন। ১৯৯৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যার দিকে দিয়াশলাই কেনার জন্য বাড়ির পাশে মুদি দোকানে যায়। এ সময় তন্দ্রাকে একা পেয়ে ওই এলাকার বখাটে মানিক তাকে জড়িয়ে ধরে। মানিকের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বাড়ির দিকে ছুটে যায় তন্দ্রা। এবং বিষয়টি তার মাকে জানায় পরে তার মা মাসুদা চৌধুরীসহ তন্দ্রা বাহিরে বের হয়ে বকাটে মানিককে জিজ্ঞেস করলে মা মেয়ের উপর চড়াও হয় মানিক। এ সময় সাথে থাকা মানিকের সহযোগী ও নিকটাত্মীয় রতন, রানা, বাবলা ও মালেকার সাথে তন্দ্রা ও মায়ের বাগবিতন্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে সকলে মিলে মা ও মেয়েকে মারধর করে এবং মানিক প্রকাশ্যে উপস্থিত লোকজনের সামনেই আবারো তন্দ্রাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানিসহ তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটনায় প্রকাশে জনসম্মুখে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন তন্দ্রা। বাড়িতে ফিরে ওই রাতেই লজ্জায়-ক্ষোভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তন্দ্রা।

পরের দিন ২ জুলাই তন্দ্রার মা মাসুদা চৌধুরী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শ্লীলতাহানি, মারপিট ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ১৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওই বছরেই পাঁচজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ওই মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও চার্জশিট পর্যালোচনা করে। গতকাল মঙ্গলবার আদালত পাঁচজনকে বিভিন্ন ধারায় অর্থদন্ডসহ মোট ১৩ বছরের সাজা দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ চৌধুরী, আব্দুল হক প্রামাণিকসহ একাধিক আইনজীবী বিভিন্ন সময়ে মামলা পরিচালনা করেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা