,

কুষ্টিয়ায় চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

কুষ্টিয়ায় চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিত্তিপাড়া গোলাপের ছেলে মামুন। দীর্ঘদিন এই ভেজাল ব্যবসা করে আসছে মামুন। রমযান উপলক্ষ্যে গুড়ের চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় মামুন এই অবৈধ কারবার করে আসছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি বড় ঘরে নোংড়া পরিবেশে চুলা তৈরী করে সেখানে নোংড়া গুড় ও চিটা গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে তা জ্বালিয়ে টিন ভর্তি করা হচ্ছে এবং সেখানে শতাধিক চিনির বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আরো জানা যায়, চিনির সাথে নিম্নমানের গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হয় ভেজাল গুড়। এক শ্রেণির অর্থলোভী গুড় উৎপাদনকারী সুস্বাদু গুড়ের ব্যাপক চাহিদাকে পুঁজি করে চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করে তা অবাধে বাজারজাত করছেন। এসব চিনি মেশানো ভেজাল গুড় এখন কুষ্টিয়া জেলায় সয়লাব হয়ে গেছে এবং এ গুড় চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র।

ক্রেতাদের অভিযোগ নিম্নমানের চিনি, পুরাতন চিটাগুড় ও গুড়ের মতো বিশেষ রং দিয়ে এ গুড় তৈরি করা হচ্ছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম হওয়ায় গুড়ে চিনি মেশাচ্ছে অসাধূ ব্যবসায়ীগণ। চিনিগুলো রসের সঙ্গে মিশে তৈরি হচ্ছে গুড়। এরপর ওই গুড়ে হাইড্রোজ ও ফিটকারি মিশিয়ে গুড়ের রং উজ্জ্বল করা হচ্ছে। রমজান মাসে জনগন রোজা রেখে এই গুড় খেয়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে এবং মামুন কোটিপতি বনে যাচ্ছে। এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভেজাল গুড়ের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান করছি এবং ভেজাল গুড় ধ্বংশ সহ বিভিন্ন অংকের জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এই ভেজাল গুড় খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। এই ভেজাল গুড়ের কারনে কিডনী ড্যামেজ, লিভারের সমস্যা সহ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা