,

মাদকের কুফল ও প্রতিকারের উপায়

মাদকের কুফল ও প্রতিকারের উপায়

মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসাইন : বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে মাদক। এই মাদকের কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে অপরাধ প্রবণতা। মহান আল্লাহ মানুষকে সুন্দর শৃঙ্খল জীবন যাপনের জন্য যাবতীয় উপায় কোআন ও হাদীসে নির্দেশনা দিয়েছেন। মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর ও পবিত্র তা সবকিছু মহান স্রষ্টা হালাল করে দিয়েছে। আর যা অকল্যাণকর তা হারাম করেছে। হারাম বস্তুর মধ্যে মদ হচ্ছে অন্যতম। যেসব খাদ্য, পানীয় বা বস্তু সুস্থ মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটায়, জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে এবং নেশা সৃষ্টি করে সেগুলো মাদক দ্রব্যের অন্তর্ভূক্ত। জমহুরে ওলামার মতে যা মানুষের জ্ঞান ও চেতনাকে বিলুপ্ত করে দেয় এমন সকল পানীয়ই মদের অন্তর্ভূক্ত এবং হারাম তা আংগুর, খেজুর, মধু, গম, ভুট্টা বা অন্য যা কিছু থেকেই তৈরি হোক না কেন। মাদক দ্রব্য প্রাকৃতিক হতে পারে, যেমন-মদ, গাঁজা, তাড়ি, হাশিশ, ভাং, আফিম, চরস মারিজুয়ানা ইত্যাদি অথবা রাসায়নিক হতে পারে, যেমন-হেরোইন, ফেন্সিডিল, কোকেন, পেথিডিন, সিডাকসিন, ইয়াবা ইত্যাদি। পরিমাণে অল্প হোক কিম্বা বেশি হোক নেশা চিত্তবিকৃতিকারী হলেই তা হারাম বা নিষিদ্ধ। মাদক নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বর্তমানেও কম হচ্ছে না। পৃথিবী যত দিন থাকবে ততদিন আলোচনা চলবে। এর ক্ষতির পরিমাণ কত তার হিসাব করা কঠিন। গত ৫ সেপ্টেম্বর ১৩ ইং তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় বছরে বাংলাদেশে ৭০০ কোটি টাকার ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয় হয়।

মাদক দ্রব্য মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। মাদকদ্রব্যের অনেক কুফল রয়েছে। নিম্নে মাদকাসক্তির কুফলসমূহ এবং এর প্রতিকারের উপায়গুলো পাঠক সমাজের নিকট আলোচনা করছি।হারাম বা নিষিদ্ধ ঃ পৃথিবীর কোন ধর্মই মাদক দ্রব্যের ব্যবহারকে অনুমোদন করেনি। আর ইসলামের দৃষ্টিতে সকল প্রকার মাদক দ্রব্যের ব্যবহার একটি জঘন্য ধর্মীয় ও সামাজিক অপরাধ। তাই ইসলামী শরীআতে মদ্যপান সম্পূর্ণ ভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়েছে। হাদীস শরিফে বর্ণিত আছে মদ ও ঈমান একত্র হতে পারে না (নাসাঈ শরিফ)। অর্থাৎ কোন মুসলমান মদ গ্রহণ ও বহন করতে পারে না।

শারীরিক ক্ষতি ঃ মাদক দ্রব্য গ্রহণের ফলে, ফুসফুস ও মস্তকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকে। হৃদয় স্পন্দন ও নাড়ির গতি বৃদ্ধি পায়, চোখ রক্ত বর্ণ হয় এবং মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যায়। এতে হজম শক্তি বিনষ্ট হয়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায় মানবদেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাধতে থাকে। স্থায়ী কফ, কাশি এবং যক্ষারোগের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় পঙ্গুত্বে পরিণত হয় এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয়। শুধু তাই নয় ঃ মাদকদ্রব্য ব্যবহারে মানুষের বিবেক বুদ্ধির ওপর দারুণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়, হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। সাধারণত দেখা যায় যে, মানুষ যতক্ষণ নেশাগ্রস্ত থাকে ততক্ষণ তার বিবেক বুদ্ধি কোন কাজই করতে পারে না।

অপব্যয় ঃ মাদকাসক্তি মারাত্মক অপব্যয়। একজন মাদকাসক্তের জন্য দৈনিক প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। মদ্যপানে প্রচুর ধন-সম্পদ অপব্যয় ও অপচয় হয়। অপব্যয় মারাত্মক অপরাধ। ইসলামে সর্বপ্রকার অপব্যয় বর্জনীয়। আল্লাহ তা’আলা অপব্যয়ীকে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেন: “নিশ্চয়ই অপব্যয়কারিগণ শয়তানের ভাই (বনী ইসরাঈল: ২৭) আর অপচয় থেকেই শুরু হয় অবৈধ উপার্জনের লোভ লালসা। মাদকাসক্ত তার মাদকের ব্যয় সংকুলানের জন্য নানা রকম দুর্নীতি, অসামাজিক ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়ে। মদ পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর কর্মকাে ও পাপাচারে লিপ্ত হয়। মাদক দ্রব্য ব্যবহারে মানুষ চিত্তবিভ্রম, অস্থির ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ব্যভিচার ও নরহত্যার অধিকাংশই বিষধর মাদকাসক্তির পরিণাম। ট্রাক, বাস, ট্যাক্সি ইত্যাদি যানবাহন সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনা অনেক সময় মাদকাসক্ত চালকের কারণেই ঘটে থাকে। মাদকের জন্য শুরু করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা, গুম, অপহরণ, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ ঘটে।

এছাড়াও মাদকের ফলে পরিবেশ দূষিত, যৌনশক্তি লোপ, দুঃখ-দারিদ্র্য বৃদ্ধি, ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করে। আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেনঃ “নিশ্চয়ই শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত হতে বিরত রাখতে চায়। তবুও কি তোমরা তা থেকে নিবৃত হবে না।? (আল-মায়িদা ঃ ৯১) মহানবী (সঃ) বলেন মাদকাসক্তি ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। মহানবী (স) অন্যত্র বলেন: “আল্লাহ তা’আলা লানত দিয়েছেন মদকে, তার পানকারীকে, পান করানকারীকে, বিক্রেতাকে, ক্রেতাকে, তৈরিকারীকে যা, দ্বারা তা তৈরি করা হয় তাকে, বহনকারীকে, যার কাছে তা বহন করা হয় তাকে (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)
প্রতিকার ঃ
ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতিকে বিধ্বস্তকারী মরণব্যাধি ব্যাধি হচ্ছে মাদক। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জঘন্য পাপাচার। আর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি চরম অপরাধ। তাই এহেন ঘৃণ্য দ্রব্যের ব্যবহার ও প্রসার রোধ করা দরকার। নিচে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে তা বর্ণনা করছি। মনে রাখতে হবে মাদক নির্মূল কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
প্রস্তুত ও সরবরাহ বন্ধকরণ ঃ যারা মাদক দ্রব্য প্রস্তুত, এর প্রচলন ও সরবরাহ কাজে জড়িত তাদেরকে দেশ ও জাতির স্বার্থে এ ঘৃণ্য কাজ বর্জন করা উচিত। তারা সমাজকে সুন্দর সুশৃঙ্খল করার জন্য নিজেদের আর্থিক ফায়দা লুটার পরিবর্তে মদসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই যথেষ্ট।
পরিবার প্রধানের দায়িত্ব ঃ পিতা-মাতা, অভিভাবকবৃন্দ যারা পরিবার প্রধানের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন, তারা নিজেদের সন্তানদের মাদক দ্রব্যের ক্ষতি সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত করবেন এবং তাদের মধ্যে ও কু-অভ্যাস যেন কোন মতেই গড়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে সদা সর্তক থাকবেন। তারা যাতে অসৎ ও দুশ্চরিত্র বন্ধু বান্ধব ও সঙ্গী-সাথী যোগাড় না করতে পারে বা তাদের সাথে মিশতে না পারে, সে ব্যাপারে সুদৃষ্টি রাখবেন। সন্তানদের স্নেহ ও মায়া-মমতা দিয়ে সর্বদা কাছে রাখবেন এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করবেন। পিতা-মাতার প্রধান দায়িত্ব সন্তানকে প্রথমে ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
শিক্ষকদের দায়িত্ব ঃ শিক্ষকগণ তাঁদের সুন্দর চরিত্র, আচার-আচরণ, আদেশ ও উপদেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে মাদক মুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। যদি শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের এ মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও উপদেশ দিতে থাকেন, তাহলে ছাত্ররা এ কুপথে অগ্রসর হতে সাহস পাবে না। ফলে মাদক মুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে।

ইমাম ও আলিমদের দায়িত্ব ঃ দেশের মানুষ যে কোন সামাজিক সমস্যা সমাধানে মসজিদের খতিব, ঈমাম ও আলেমগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। আমাদের দেশে প্রায় তিন লক্ষ মসজিদ রয়েছে তাই মসজিদে বা ওয়াজ মাহফিলে জুম’আর খুতবার ভাষণে মাদক দ্রব্যের ক্ষতিকর দিকগুলো কুরআন হাদিসের আলোক উপস্থাপন করেন। তাহলে মুসল্লিগণ মাদক দ্রব্য গ্রহণ না করার ব্যাপারে সজাগ হয়ে যাবে। এছাড়া ঃ সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীগণ যদি মাদক দ্রব্যের প্রসার রোধের দৃঢ়সংকল্প নিয়ে প্রচেষ্টা চালান তাহলে দেশকে মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
আইনের সঠিক প্রয়োগ ঃ সরকার মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে যে আইন প্রণয়ন করেছে তার সঠিক প্রয়োগ থাকলে সমাজে মাদক দ্রব্য আর দেখা যাবে না কেউ ব্যবহার করবে না।
প্রচার মাধ্যম ঃ মাদকের কুফল স্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াকে আরো ব্যাপক প্রচার ও প্রসার চালাতে হবে। তাহলে দেশ থেকে মাদক নির্মূল হবে।

ধর্মীয় চেতনা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মাদকাসক্তি অপবিত্র, ক্ষতিকর ও শয়তানের নিকৃষ্ট কারসাজি যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ সহ যাবতীয় ইবাদত থেকে সরিয়ে নেয়। তাই জনগণকে কুরআন ও হাদীসে মদের কুফল সম্পর্কে যেসব বাণী রয়েছে, সেগুলো শুনাতে হবে এবং মদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জন্মাতে হবে। মহানবী (স) এর যুগে মদ পানের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত আয়াত অবতীর্ণ হলে সাহাবা কেরাম (রা) মদপান বর্জন করার আদেশ পাওয়া মাত্র নিজ নিজ ঘরে ব্যবহারের জন্য রক্ষিত মদ সাথে সাথেই নিক্ষেপ করে ফেলে দেন। মদের পেয়ালা, কলস, মটকা, হাঁড়ি ইত্যাদি যাবতীয় পাত্র ও উপকরণাদি ভেঙ্গে ফেলেন। মদীনার অলিতে গলিতে বৃষ্টির পানির মত মদ প্রবাহিত হল। যে মদ তাদের কাছে এত প্রিয় ও লোভনীয় ছিল, তা তারা ঘৃণা ও পরিহার করল। সাহাবা কেরামদের এ আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে মাদক দ্রব্য ধ্বংস হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, মাদক সেবন ও কেনা-বেচার সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় শৈশব ও কৈশোর। এ কথা আক্ষরিক অর্থে সত্যি হয়ে উঠেছে মাদকাসক্ত শিশু-কিশোরদের সংখ্যা বাড়ায়। অপরাজেয় বাংলাদেশসহ একাধিক এনজিও এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, প্রতিনিয়তই বাড়ছে শিশু-কিশোর মাদকাসক্তদের সংখ্যা। এছাড়া চরম অশান্ত পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক শৈশব ও কৈশোর হারিয়ে ফেলেছে প্রায় ১৪ লাখ শিশু-কিশোর। যারা পথশিশু হিসেবে পরিচিত। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের লেখাপড়া স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা। এমনকি মাদকদ্রব্য কেনা-বেচায় শিশুকিশোর ও নারীদের যোগদান করার সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে (যুগান্তর ২৮ আগস্ট ২০১৩) এর জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ঐশী নামের মেয়েটি। সে শুধু মাদকের কারণে তার পিতা-মাতাকে নির্মমভাবে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে নাই।
এছাড়াও অনেক হত্যাকান্ড ও সংঘর্ষের পিছনে রয়েছ মাদক। গত মে মাসে বগুড়ার শিবগঞ্জে ফোর মার্ডারের নেপথ্যে ছিল এই মাদক। এই মাদকই কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন। ধ্বংস হচ্ছে বহু সোনার সংসার। অবশ্য বর্তমান সরকার দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে যে অভিযান পরিচালনা করছে তাতে মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দিয়েছে। এই অভিযানে খেয়াল রাখতে হবে কেহ যেন প্রতিহিংসার স্বীকার না হয়। অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে বলে আমরা মনে করি।
পরিবেশে বলা যায় মাদকদ্রব্য কোন অবস্থাতেই গ্রহণীয় নয়। এটি ধর্মীয়, দৈহিক, মানসিক, নৈতিক, ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করে। তাই সরকার ও সমাজের সকল স্তরের লোকজন এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনবোধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করে মাদকদ্রব্য গ্রহণ ও বহন, বিতরণ বন্ধ করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে মাদক দ্রব্যসহ অপরাধ প্রবণতা দুর হবে এবং সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ মাদক মুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে উঠুক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা