,

ক্রমাগত বেড়েই চলেছে হিজড়াদের ‘চাঁদাবাজি’

সম্পাদকীয় →বাংলা সময় ২৪ ডটকম, ক্রাইম রিপোর্ট, বাংলা সময় ২৪ ডটকম :- সবখানেই হিজড়াদের টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। সড়কের সিগন্যাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি কিংবা বিয়ে বাড়ি। কেউ ভয়ে কেউ আবার স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। কিন্তু ইদানিং হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। পাল্টে গেছে তাদের টাকা চাওয়ার ধরনও। আগের দিনের সেই টাকা তোলা এখন চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে হিজড়ারা।

ট্রাফিক সিগন্যাল পড়ার পর হিজড়ারা সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। কারণ তাদের সঙ্গে তর্ক করলে যাত্রীদের আরো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাহানারা বলেন, বেশকিছু দিন আগে কলাবাগান থেকে সহকর্মীর সঙ্গে মোহাম্মদপুর যাচ্ছিলাম। ধানমন্ডিতে পৌঁছানোর আগের মোড়ের সিগন্যালে গাড়ি থামলে দুই হিজড়া আমাদের রিকশার দু’পাশে এসে দাঁড়িয়ে টাকা চাইলেন। আমার সহকর্মী টাকা দিতে মানা করলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হিজরা হাত স্পর্শ করে ২০ টাকা আদায় করে। কিন্তু তারা চাহিদা আরো বেশি। পরবর্তীতে ১০০ টাকা আদায় করে তারা।

তানজিনা ইসলাম নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, হিজড়া দেখে আমি ভয় পাই। বাংলামোটর সিগন্যালে আমাকে হিজড়া ধরলে আমি তাদের দূরে সরতে বলি। পরবর্তীতে তারা আমার শরীরে হাত দিলে আমি হ্যান্ডব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা বের করে দেই। হিজড়ারাদের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ (শারীরিক ভঙ্গি) দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। যাদের চেহারায় তারা ভয় দেখে তাদের থেকে বেশি আদায় করে।

রাজধানীর বাংলামোটর থেকে সেগুনবাগিচা যাচ্ছিলেন আজাদ রহমান। মগবাজার মোড়ের কাছাকাছি এসে তিনি দেখলেন সালোয়ার কামিজ পরিধান একজন দৌড়ে গিয়ে একটি রিকশা থামালো।

আজাদ জানান, প্রথমে দূর থেকে আমি বুঝতে পারিনি। মনে হচ্ছিল একজন মেয়ে কেন এভাবে রিকশার পেছন দৌড়ে সেটি থামাবে। কৌতুহল হচ্ছিল। আমাদের রিকশা যখন বেইলীরোডে পৌঁছে তখন সিগন্যাল পড়ে গেছে। সেসময় সামনা-সামনি দেখে আমার কৌতুহলের ইতি ঘটে। সামনে আসতেই ‘কিছু টাকা’ দাবি করে সে একজন হিজড়া। ১০ টাকা দিলে রাজি হয় না সে। পরে জোরপূর্বক ২০ টাকা আদায় করে।

হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজারের সিগন্যালেও চলে হিজড়াদের এই ‘চাঁদাবাজি’।

লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারর করে পাশেই থাকুন।
বাংলা সময় ২৪ ডটকম

এ জাতীয় আরো সংবাদ


ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা